অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে ভারত

চকবাজারের ব্যবসায়ীরা দেশীয় অর্থনীতিতে একটি বিরাট অবদান রাখছেন এবং তাদের প্রভাবে ভারত নতুন করে বাজার তৈরি করতে পারছে না। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বাজার নষ্ট করতে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে ‘র’ এবং মোসাদ। এ ঘটনার সঙ্গে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে বলেও মনে করছেন গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, আলাদা হলেও উদ্দেশ্য একই, বাংলাদেশকে স্বনির্ভর হয়ে ওঠার পথে বাধা সৃষ্টি করা। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিয়ার বিদ্রোহের আসল কলকাঠি নেড়েছিলো ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’, তার সাথে আমাদের ডিজিএফআইও জড়িত থাকতে পারে। সেখানে আমাদের এতোগুলো আর্মি অফিসারকে মেরে ফেলা হয়েছে, আমরা যেন ভারতীয় আর্মির ওপর আরো বেশি নির্ভর থাকি।

একইভাবে চকবাজারের অগ্নিকা-ের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা। একইসাথে ইন্ডিয়ান পণ্যের বাজার তৈরি করার প্রয়াস। সাধারাণত চকবাজার, জিঞ্জিরা, কেরানীগঞ্জ এলাকায় অনেক দেশি-বিদেশি পণ্যের মানসম্পন্ন কপি তৈরি করা হয়। যার দেশীয় বাজারে চাহিদা রয়েছে এবং দেশীয় অর্থনীতিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।

যেমন বিদেশি কোনো যন্ত্রাংশের ক্ষুদ্র একটি অংশ পাওয়া না গেলে, সেই এলাকার কারিগররা অবলীলায় সেটা হুবহু আদলে বানিয়ে দিতে পারে। সুতারং তারা দিনেদিনে অনেক দিক দিয়ে ভারতের বাজারের প্রতিদ্বন্দ্বী উঠছে। আর সেটা বুঝতে পেরে আমরা যেন স্বয়ংসম্পন্ন হয়ে উঠতে না পারি, আন্তর্জাতিক বাজার যেন আমরা ধরতে না পারি, সেই উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

এ ধরনের নোংরা আন্তর্জাতিক রাজনীতির শিকার হচ্ছে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো। আর এসব তথ্য-কথা চাপা পড়ে যায় আগুন, কেমিক্যাল, পোড়া মানুষের গন্ধ, মৃত্যুর সংখ্যা লেখা হেডলাইনের নিচে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আমার প্রমাণ করা জরুরি নয় বরং সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে এই ঘটনা কোনোভাবেই উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং পরিকল্পিত নয়।

অন্যদিকে তিনি চকবাজার ট্র্যাজেডিতে নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করে আরো বলেন, তারপরেও এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলতে আরো সচেতন হতে হবে। তবে টেকসই বিকল্প ব্যবস্থা না করে কেমিক্যালের গুদাম সরিয়ে নেয়া সমুচিত হবে না। পৃথিবীর অনেক দেশেই শহরের পুরানো অংশে গুদামজাতের ব্যবস্থা রাখা হয়। এছাড়া সাধারণত নদীর পাশেই গড়ে উঠে ব্যবসায়িক এরিয়া। সে দিক দিয়ে পুরান ঢাকা ব্যবসা কেন্দ্রের জন্য উপযুক্ত স্থান। ব্যবসা না সরিয়ে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয়া উচিত হবে বলে মনে করেন ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী। সংবাদ উৎস – আমাদের সময়
শেয়ার করুন

Updated: 02/26/2019 — 7:45 am