পুলিশ লাইনে বাবাকে জড়িয়ে ধরে মেয়ের কান্না

সমগ্র বাংলা

পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করেন এক চাকরিপ্রার্থী নারী। কারণ ১০৩ টাকার বিনিময়ে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি হয়ে গেছে তার। পুলিশে চাকরি পাওয়ার খুশিতে মেয়ের কান্না দেখে কেঁদে ফেলেন বাবাও।

মঙ্গলবার দিনাজপুর পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামের সামনে বাবা-মেয়ের কান্নার এ দৃশ্য দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ওই বাবা-মেয়ের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে ওই মেয়ের চাকরি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, দিনাজপুরে ১০৩ টাকায় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে ৮০ জন নারী-পুরুষ চাকরি পেয়েছেন। মঙ্গলবার কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হলো।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দিনাজপুর পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১০৩ টাকার বিনিময়ে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে চূড়ান্ত প্রার্থীদের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। পুলিশ সুপার মো. সৈয়দ আবু সায়েম চূড়ান্ত প্রার্থীদের নামের তালিকা ঘোষণা করেন।

পুলিশ সুপার মো. সৈয়দ আবু সায়েম বলেন, ৮০ জন নারী-পুরুষকে পুলিশ কনস্টেবল পদে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ জন নারী ও ৫৪ জন পুরুষ। এদের মধ্যে পাঁচজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী-পুরুষকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। পুলিশ নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন থেকে আর কাউকে দালাল বা কোনো রাজনৈতিক নেতার কাছে যেতে হবে না। সরকার নির্দিষ্ট ১০৩ টাকায় আবেদন করে পুলিশ লাইনে দাঁড়াতে পারবে যে কেউ।

সৈয়দ আবু সায়েম আরও বলেন, এ বছর দিনাজপুরে পুলিশের নিয়োগের সময় একজন পরীক্ষার্থীর পক্ষে তার বড় ভাই পরীক্ষা দিতে এসে ধরা পড়েছেন। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া দিনাজপুরে পুলিশ নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনার সময় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক সদস্য ও রংপুরের আরআরএফ’র এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটক দুই পুলিশ সদস্য পুলিশ নিয়োগ কার্যক্রমের ভেতরে প্রার্থীদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখাচ্ছিলেন। আটকের পর রংপুরের ডিআইজির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের ফলাফল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ ও পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায়, দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুশান্ত সরকার ও দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) বজলুর রশিদ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *